জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষে স্বর্ণের দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার আগেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার আগেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নোটে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস কার্যকর হলে সে সময় স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে বর্তমান স্তরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ। খবর মাইনিং ডটকম।

ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন সম্পদ থেকে কিছু বিনিয়োগ সরিয়ে স্বর্ণ খাতে স্থানান্তর করলেই এ পরিস্থিতি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

জেপি মরগ্যানের নোট অনুযায়ী, বিদেশী মালিকানাধীন মার্কিন সম্পদের মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ স্বর্ণে স্থানান্তর হলে প্রতি বছর ১৮ শতাংশ মুনাফা সম্ভব, যা ধাপে ধাপে স্বর্ণের দামকে আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছে দেবে।

এ হিসাব অনুযায়ী, আগামী চার বছরে স্বর্ণ খাতে আনুমানিক ২৭ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন নতুন বিনিয়োগ আসবে। যদিও এ পরিমাণ মোট স্বর্ণ মজুদের মাত্র ৩ শতাংশ। জেপি মরগ্যান বলছে, তবু প্রতি প্রান্তিকে এ অতিরিক্ত চাহিদার চাপ অনেক বড় প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের সরবরাহ মোটামুটি স্থিতিশীল হওয়ায় চাহিদা কিছুটা বাড়লেও দামে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা লিখেছেন, যদিও দামের এ পূর্বাভাস অনুমাননির্ভর। তবে সামনের দিনগুলোয় স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এটি স্পষ্ট।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম চলতি বছরের এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাসহ একাধিকবার রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থান অতিক্রম করেছে। স্বর্ণের বর্তমান দাম তিন বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা জানান, এ ঊর্ধ্বমুখিতার পেছনে রয়েছে একাধিক বছর ধরে চলা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তা আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

জেপি মরগ্যান আরো জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে অন্য দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আরো সতর্ক হয়ে উঠেছেন। ফলে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে বাড়ছে স্বর্ণের দাম।

জেপি মরগ্যান গত মাসে জানিয়েছিল, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) স্বর্ণের গড় মূল্য হতে পারে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে আউন্সে ৪ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে।

এদিকে দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘদিন ধরে থাকা স্বর্ণ ও রুপার দামের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ভেঙে গেছে। সাধারণত ‘গোল্ড-সিলভার রেশিও’ নামে পরিচিত এ অনুপাত ৪৫-৮০-এর মধ্যে থাকত। কিন্তু ২০২২ সালের পর তা বেড়ে বর্তমানে ১০২-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক আউন্স স্বর্ণ কিনতে বর্তমানে আরো অনেক বেশি রুপা প্রয়োজন হচ্ছে। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ ও রুপার দামের চার দশকের পুরনো আনুপাতিক সম্পর্ককে ভেঙে দিয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে রুপা কেনা খুব বেশি লাভজনক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। বরং সে তুলনায় স্বর্ণে বিনিয়োগ করাই এখন সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ও মুনাফাজনক।

আরও